মুনিরুল তারেক, ঢাকা:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তর ছিল ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সিন্ডিকেটের একচেটিয়া অভয়ারণ্য। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অনেক দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী আইনের আওতায় আসলেও, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন নোয়াখালী গণপূর্তের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন রিজু। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাহাড় থাকলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।
পঞ্চগড় সদরের রৌশানবাগ গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন কর্মজীবনের শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাবের নেশায় মত্ত ছিলেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়ার সুবাদে ২০১৩ সালে ৩২তম বিসিএসে ‘ছাত্রলীগ কোটায়’ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। অভিযোগ আছে, যোগদানের পর থেকেই প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদে ঢাকা ডিভিশন-১-এ পোস্টিং বাগিয়ে নিয়ে শুরু করেন কমিশন বাণিজ্য।
আশরাফ উদ্দিনের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় অধ্যায় রচিত হয়েছে গাজীপুরে কর্মরত থাকাকালীন। সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান প্রকৌশলীর নিয়ম উপেক্ষা করে এলটিএম-এর পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ১৫-২০% কমিশন পকেটে ভরেছেন তিনি। এমনকি আইন অমান্য করে নিজের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনেও সক্রিয় ছিলেন এই প্রকৌশলী। উত্তরায় মাথায় লাল ফিতা বেঁধে মোটরসাইকেল মহড়ায় তাকে দেখা গেছে। এছাড়া গাজীপুরের সাবেক মেয়রের সঙ্গে উত্তরা ক্লাবে বসে আন্দোলন দমনের গোপন নকশাতেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণের তথ্য মিলেছে।
তার বিরুদ্ধে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, অবৈধ অর্থের প্রভাবে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক ভোল পাল্টে এবং কিছু ছাত্রনেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছেন। ভোলা থেকে নোয়াখালীতে বদলি হলেও তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের অভিযোগের শেষ নেই। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে বিপুল অংকের ঘুষ দিয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে আকাশচুম্বী।
এসব প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিনকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালে তিনি সাড়া দেননি।
রংপুর, পঞ্চগড়, ঢাকা ও গাজীপুরে তার ও তার আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা বিপুল সম্পদের ফিরিস্তি নিয়ে বিস্তারিত আসছে প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।





Add comment