টিটিবি রিপোর্ট, ঢাকা:
রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান থানাধীন আজমপুর ও পুরাকৈর এলাকায় রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই চলছে অসংখ্য অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। রাজউক জোন-২/১ এর ইমারত পরিদর্শক শরফুদ্দিনের প্রত্যক্ষ মদদে ও ঘুষ বাণিজ্যের বিনিময়ে এসব ভবন গড়ে উঠছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ম না মেনেই দাপুটে নির্মাণঃ
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, আজমপুর পুরাকৈর এলাকায় ফজলুল হক শিশিরসহ একাধিক মালিক রাজউকের নকশা ও আইন অমান্য করে ভবন নির্মাণ করছেন। অধিকাংশ নির্মাণাধীন ভবনেই নেই কোনো বাধ্যতামূলক তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড কিংবা নিরাপত্তা জাল। রাজউকের আইন অনুযায়ী ভবনের চারদিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ছাড়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এমনকি ভবনে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা ‘ভয়েড’-এর কোনো বালাই নেই।
মালিকের দম্ভোক্তি ও গণমাধ্যমকে হুমকিঃ
অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন মালিক ফজলুল হক শিশির প্রকাশ্যেই দুর্নীতির কথা স্বীকার করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন:
“রাজউকের অনুমোদন আছে কি নাই, সেটা ইন্সপেক্টর দেখবেন। তার অনুমতি ছাড়া কি আমি বাড়ি করছি? তাকে ম্যানেজ করেই কাজ করছি।”
এক পর্যায়ে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের মামলা ও হয়রানির হুমকিও প্রদান করেন।
পরিদর্শক শরফুদ্দিনের ‘সীমানা বহির্ভূত’ দাপটঃ
স্থানীয় সূত্র ও রাজউকের অভ্যন্তরীণ তথ্যানুযায়ী, ইমারত পরিদর্শক শরফুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি কেবল নিজের জোনেই সীমাবদ্ধ নন, বরং প্রভাব খাটিয়ে অন্য ইন্সপেক্টরের এলাকায় গিয়েও অবৈধ সুবিধা নিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউকের একজন কর্মকর্তা জানান, “শরফুদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূত কাজে সহায়তা করে আসছেন।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে পরিদর্শক শরফুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
জননিরাপত্তা ও রাজউকের ভূমিকাঃ
রাজউকেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দক্ষিণখানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে অবৈধ ভবন নির্মাণের ‘মহোৎসব’ চলছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নকশা বহির্ভূত এসব ভবন জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে এসব এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।





Add comment